নিজস্ব প্রতিনিধি
যাঁরা প্রকৃতির ছন্দে বেঁচে থাকেন, তার হৃদস্পন্দন শুনতে পান,তার নীরবতার ভাষা অনুবাদ করেন মানুষের ভাষায়। কন্নড় কবি, চিন্তক, সংগঠক,রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কৃষিজীবী নাগতিহল্লি রমেশ নিঃসন্দেহে সেই বিরল পরম্পরার উত্তরসূরি।
রাজ্য,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু সম্মানে ভূষিত এই কবি এবার নির্বাচিত হয়েছেন ‘গঙ্গা–কাবেরী মহাসাগর ও পৃথিবী করুণা আন্তর্জাতিক পুরস্কার – ২০২৬’-এর জন্য। এটি কেবল তাঁর দীর্ঘ পুরস্কার-তালিকায় আর-একটি সংযোজন নয়; বরং মানবতা, পরিবেশ সচেতনতা, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং জীবনের পারস্পরিক নির্ভরতার প্রতি আজীবন নিবেদিত এক সাধনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
নদীর চেয়েও গভীর এক প্রতীক গঙ্গা ও কাবেরী কেবল নদী নয়। তারা ভারতীয় সভ্যতার দুই মহাধমনী।তারা কৃষি ক্ষেত্রকে উর্বর করে, জনপদকে বাঁচিয়ে রাখে, সংস্কৃতিকে বহন করে এবং যুগযুগান্তরের আধ্যাত্মিক স্মৃতিকে প্রবাহিত করে।
গঙ্গার জন্ম গঙ্গোত্রীতে, হিমালয়ের বুকে। কাবেরীর জন্ম তালাকাবেরীতে, পশ্চিমঘাটের অন্তরে। জন্মভূমি ভিন্ন,ভাষা ভিন্ন, ভূপ্রকৃতি ভিন্ন তবু তাদের পরিণতি এক; দু’জনেই এসে মিশেছে বঙ্গো পসাগরের বিস্তৃত।
নাগতিহল্লি রমেশের জীবনযাত্রাও যেন সেই দুই নদীরই প্রতীক। কাবেরীর দেশে জন্ম নেওয়া এই কবি আজ পশ্চিমবঙ্গে এসে গ্রহণ করতে চলেছেন এমন এক আন্তর্জাতিক সম্মান, যার অনুপ্রেরণা নদী, মহাসাগর পৃথিবী এবং করুণা।নদী যেমন সাগরে মিলিত হয়, তেমনি কবির দীর্ঘ যাত্রাও এসে মিলেছে এক নতুন তীরে স্বীকৃতির তীরে।ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায়,ইউনাইটেড জার্নালিস্টস ফোরাম, আনন্দ বাহার এবং ইউনিভার্সাল সোলট্রি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রদত্ত এই আন্তর্জাতিক সম্মান পরিবেশরক্ষা, পরিবেশসচেতনতা, মানবিক সেবা, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং টেকসই পৃথিবী নির্মাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।
পুরস্কারের মূলমন্ত্র
“দুই পবিত্র নদী,এক মহাসাগর, এক পৃথিবী, এক দায়িত্ব।”
এই বাক্যটি যেন নাগতিহল্লি রমেশের সমগ্র জীবনদর্শনেরই সংক্ষিপ্তসার।
