
নিজস্ব সংবাদদাতা,
কল্যাণী ১৪ ই জুন ২৬, রবিবার কল্যানী মহকুমা পরিষদ হলে ব্যাঙ্ক অব বরোদা এমপ্লয়ীজ অ্যাসোসিয়েশনের ৮০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের সংগঠিত, অসংগঠিত সর্বস্তরের কর্মচারীদের নিয়ে পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে ব্যাংক শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিক কর্মচারীদের সংগ্রাম সম্পর্কে একটি ট্রেড ইউনিয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সিটু পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম নয়া শ্রম কোড ও নয়া উদারবাদী যুগে শ্রমিকের অধিকারে উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে হল উপচে পড়া উপস্থিতিতে ১৬৪৮ সালের রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ২০৪৮ সালে অদূর ভবিষ্যতে পুঁজিবাদের রূপান্তর ও শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রামের অগ্রগতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেন।
বোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য পরিসংখ্যান লেখচিত্রের মাধ্যমে কমরেড জিয়াউল আলম এর দীর্ঘ পরিবেশনা সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল।
বেফ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাশগুপ্ত ব্যাংক আন্দোলনের ৮০ বছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে উক্ত কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
ভারতীয় অর্থনীতি, ব্যাংক শিল্পে সংগঠনের
প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বেফ সভাপতি কমরেড জয়দেব দাশগুপ্ত সাড়ে সাত লক্ষ স্থায়ী কর্মচারী ও ১৮ লক্ষ চুক্তিবদ্ধ, ক্যাজুয়াল ও ব্যাংক মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার উপরে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন ব্যাংক শিল্পের স্থায়ী কর্মচারীরা বর্তমানে ভীষণভাবে সংখ্যালঘু।
ব্যাংক শিল্পে অস্থায়ী ও সংগঠিত কর্মচারীদের সাথে সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক শিল্পকে বাঁচানো যাবে না।
কর্মশালার সূচনায় বেফ নদীয়ার জেলা সম্পাদক শান্তি বৈদ্যের স্বাগত ভাষণ এবং পরিশেষে বিওবিই এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মজুমদারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মশালাটি সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়।
সূচনা পর্বে বীমা কর্মচারী নেত্রী মুনমুন কবিরাজের পরিবেশনায় দুটি রবীন্দ্র সংগীত এবং একটি আঞ্চলিক ভাষায় অনবদ্য কবিতা আবৃত্তি শ্রোতাদের মন জয় করে।
কর্মশালায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এরপর অপরাহ্ণে স্থায়ী কর্মচারী, ক্যাজুয়াল ও চুক্তিবদ্ধ কর্মচারী এবং ব্যাংক মিত্রদের নিয়ে দফায় দফায় সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে নেতৃত্বের পক্ষে অতনু দাশগুপ্ত এবং জগন্নাথ ভদ্র কর্মচারীদের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সকাল ১০ টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই দীর্ঘ কর্মসূচিতে জেলার ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে।
