নিজস্ব প্রতিনিধি,অভিজিৎ হাজরা
আমতা,হাওড়া :-
পরিবেশকর্মী , বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী ও ডট ফাউন্ডেশন এর কর্ণধার দীপঙ্কর পোড়েল আমতা – রানীহাটি রোডে যেতে গিয়ে দেখেন গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার আমতা – রাণিহাটি সড়ক পথের দশ নম্বরের পোলের কাছে হরিদাদপুরে সড়কের ওপরে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গন্ধগোকুল বা Small Indian Civet এর মৃতদেহ পড়ে আছে। দেখে ওনার মনে হয় পথ দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে প্রাণীটি। স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে দীপঙ্কর কথা বলে জানেন , রাত ৯টা নাগাদ রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে বাইকের আঘাতে মাথায় চোট লেগে মারা যায় গন্ধগোকুলটি। দীপঙ্কর বলেন, এই এলাকার আশেপাশেই ঘন ঝোপঝাড়। এই ঝোপঝাড়েই ওরা নিভৃতে থাকতে ভালোবাসে এবং রাতের বেলা খাদ্য সংগ্রহে বের হয়। এমনিতেই আমতা-রানীহাটি রোডের দুই ধারে শিল্পায়ন ও বেআইনি নির্মানে দুই পাশের জলাজমি ও সংলগ্ন বনাঞ্চল শেষ হয়ে গিয়ে মেছোবিড়াল, বনবিড়াল, গন্ধগোকুলদের বাসস্থান সংকট প্রবল। তার ওপর এই সড়ক এর সম্প্রসারণের ফলে দ্রুত গতিতে গাড়ির চলাচলে এই সব বিপন্ন প্রাণীগুলোর জন্য আরো মরনফাঁদ তৈরি করেছে। বিগত কয়েক বছরে এই রোডের ওপরে প্রচুর মেছোবিড়ালের মৃত্যু রেকর্ড করেছে বলে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ – সদস্য -সদস্যারা বলেন। আবারো আরো একটি বিপন্ন গন্ধগোকুলকে হারাতে হল।
দীপঙ্কর পোড়েল মৃত গন্ধগোকুলটিকে দেখে দ্রুত খবর দেন বনবিভাগে। স্থানীয় বনাধিকারিক আধঘন্টার মধ্যে উল্লেখ্য স্থানে এসে মৃত্য গন্ধগোকুলটিকে নিয়ে যায়। দ্রুত গতির যান চলাচল করা সকল রাজ্য সড়ক বা পিডব্লুডি-র রাস্তার দুই ধারের জীববৈচিত্র্যের পরিমাপ করে দ্রুত বন্যপ্রাণ পারাপারের করিডর তৈরি বা সেই মতো নির্দেশিকা সম্বলিত বোর্ড লাগানোর দাবী করে আবারো সোচ্চার হন পরিবেশ কর্মী তথা ” ডট ফাউন্ডেশন ‘-এর কর্ণধার দীপঙ্কর পোড়েল । বনবিভাগে করিডর করা নিয়ে আবারো ডেপুটেশন দেওয়া হবে বলে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সূত্রেও খবর এসেছে।
